1. asaduzzamann046@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@shomoyeralo24.com : Shomoyer Alo : Shomoyer Alo
শিরোনাম :
ছাত্রজীবনের যে ভুলগুলো আইনে পড়ুয়াদের কর্মজীবনে পিছিয়ে দেয় ২৪, ২৫ ও ২৬ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল মার্শাল আর্ট ক্লাব কাপ প্রতিযোগিতা-২০২৬ ছাত্রজীবনের যে ভুলগুলো আইনে পড়ুয়াদের কর্মজীবনে পিছিয়ে দেয় বামনায় পরিবেশ রক্ষায় ‘ইউথ ফর সুন্দরবন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে পাটের ব্যাগ বিতরণ। কটিয়াদীতে নিখোঁজের ৪ দিন পর জিল্লুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার কটিয়াদীতে চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কটিয়াদীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলার’ প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন সম্পদ ক্রয় ও বিদেশে পাচার,চেকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সিলেটে সংখ্যালঘু বৃদ্ধা মহিলা পুলিশের নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছাত্রলীগ নেতার বাবার উপর হামলা ও দোকান ভাংচুর

ছাত্রজীবনের যে ভুলগুলো আইনে পড়ুয়াদের কর্মজীবনে পিছিয়ে দেয়

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯২ বার

(ষষ্ঠ কিস্তি)

আজকের লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্রের দুজনই আমার সহপাঠী ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার কারণে তাঁরা অনেকেরই পরিচিত। সঙ্গত কারণে আমি তাঁদের নাম ব্যবহার করছি না। তাঁদের দুজনের জীবনবোধ থেকে আইনে পড়ুয়ারা যে শিক্ষা নিতে পারে, শুধু সেটুকুই এই আলোচনায় তুলে ধরার চেষ্টা করব।

আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার আইন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন আমাদের বিভাগের নাম ছিল আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগ। বিভাগের নাম পরিবর্তন নিয়ে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও আমাদের সময়ে নাম পরিবর্তন হয়নি। পরবর্তীতে পরিবর্তন হয়ে বিভাগের নাম হয়েছে শুধু আইন বিভাগ। সময়ের বিচারে এটাই যথার্থ নাম। এ বিষয়ে আরেক দিন লিখব, আজ মূল বিষয়ে ফিরে আসি।

আমরা ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হই। সেই হিসাবে আমাদের এলএল.বি. (সম্মান) ও মাস্টার্স সনদপত্রে পরীক্ষার সাল যথাক্রমে ২০১১ ও ২০১২ উল্লেখ রয়েছে। তবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সাল ভিন্ন। মাস্টার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে এবং ফল প্রকাশ হয় ২০১৬ সালের মার্চ বা এপ্রিল মাসে। সাধারণত যে সময় আমাদের শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার কথা, তার চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর শিক্ষাজীবন বিলম্বিত হয়। অর্থাৎ আমরা সেশনজটে (Session Jam) পতিত হই।

ঠিক সময়ে একাডেমিক শিক্ষা শেষ করতে না পারায়, অনেকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ঠিকভাবে নিতে না পারায় অনেকের মধ্যে হতাশা ছিল। তারপরও দেখা গেল, আমাদের এক বন্ধু মাস্টার্সের ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেশের একটি প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানজনক বেতনে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেন। সেখানে কিছুদিন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকে অল্প দিনের মধ্যেই তিনি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করলেন।

প্রায় দুই বছর পরে একদিন আমার বন্ধুকে একান্তে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুই কীভাবে লেখাপড়া শেষ করেই এত তাড়াতাড়ি কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারলি? তোর আসল প্রেরণা (Motivation) কী ছিল? আসল সত্যটা জানতে চাই।’

আমার বন্ধু বলল, ‘দেখ, বাবা সরকারি চাকরি করার কারণে বড় চাকরির বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আমার স্বচ্ছ ধারণা ছিল। চাকরির প্রেসার, বদলি, বারবার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি পরিবর্তন এবং একেক বসের একেক রকম ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে আমার আইনে পড়ার লক্ষ্য ছিল আইনজীবী হওয়া। পড়ালেখা শেষ করে উচ্চ আদালতে আইন পেশায় থিতু হব। বদলি নেই, চার-পাঁচ বছর কষ্ট করলে নিজের চেম্বার হলে আলাদা বস নেই। নিজে কিছু জুনিয়র নিয়ে স্বাধীনভাবে আমৃত্যু পেশাটা চালিয়ে যেতে পারব।

‘কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে আমার সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলীর জীবনবোধ আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। আমি দেখলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশার স্বাধীনতা আছে, বদলি নেই, সরকারি চাকরির মতো অফিসিয়াল বস নেই। আমি যে আইনজীবী হতে চাচ্ছি, সুপ্রিম কোর্টের সেসব সিনিয়র আইনজীবীগণ নিজেদের এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রির জন্য আমার সম্মানিত শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। ওই সব বড় ভাইয়ের সঙ্গেও আমার বিস্তারিত আলাপ হয়।

‘সব মিলিয়ে আমি দুটি পেশাকে খুব কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করি। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে, দেখা করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলি এবং তাঁদের জীবনবোধ বোঝার চেষ্টা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাই, হেয়ারিং শুনি, কোর্ট শেষে বড় ভাইদের চেম্বারে বসি। কিন্তু একটা বিষয় আমার ধারণা তৈরি হয় যে, একজন মোয়াক্কেলের প্রতিকার শুধু আইনজীবীর আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে না। এখানে কয়েকটি বিষয় মোকাবিলা করে তারপরেই চূড়ান্ত প্রতিকার আসে। সব মিলিয়ে আদালত, মোয়াক্কেল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে সব সময় আশানুরূপ ফলাফল আসে না। যা আইনজীবীদের মনে পীড়া দেয়।

‘সে কারণেই আমি দ্বিতীয় বর্ষেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই, পেশা হিসেবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকেই বেছে নেব। এবং সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমি সামনে এগোতে থাকি, যার ফলশ্রুতিতে আমার লেখাপড়া শেষে বেশিদিন বেকার থাকতে হয়নি। অর্থাৎ আমি যে পেশাটি বেছে নিয়েছি, সেই পেশার মানুষদের জীবনধারা (Lifestyle) দেখে এবং তাঁদের বাস্তব পরামর্শ নিয়েই আমি আমার পেশা পছন্দ করেছি। যে কারণে আমার মধ্যে কখনো হতাশাও কাজ করেনি এবং পড়াশোনার প্রতি কখনো অবহেলাও আসেনি। যার ফলাফল আজকের আমি।’

কথাগুলো আমার বন্ধু একটানা বলে গেল। আমি নিঃশব্দে শুনলাম। ভাবলাম, শিক্ষক হিসেবে কেন সে এত জনপ্রিয়! মূল কারণ তাহলে এই।

এবার আমি আপনাদের আমার আরেক বন্ধুর গল্প শুনাই, যিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানির লিগ্যাল শাখায় কর্মরত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভবিষ্যৎ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে, সে সব সময় বলত, বিসিএস বা জুডিশিয়ারির মাধ্যমে সে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবী হতে চায়।

একাডেমিক পড়াশোনা শেষে ঢাকায় এসে কোচিং করতে থাকল এবং একের পর এক বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে থাকল। এমনিতেই আমাদের সেশনজ্যামের কারণে প্রায় সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে ছিলাম, এর পরে ঢাকায় এসে কোচিং করা, পড়াশোনা করা, অনেক সময় নিজেকে মানিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। তার মধ্যেও সে বিজেএসসহ অনেকগুলো সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, কয়েকটিতে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েও চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

অবশেষে সে সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করা শুরু করল। কয়েক মাস পরেই সে এই কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে যায় এবং সেখানে যোগদান করে। অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে সে তার দায়িত্ব পালন করতে থাকে।

একদিন ওর সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছিল। অনেক কথার মাঝে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বন্ধু, তুই তো ঢাকায় এসে অনেক পড়াশোনা করলি, অনেক পরীক্ষা দিলি। সরকারি চাকরিতে সফল না হওয়ার পেছনে কোন কারণটা তোর কাছে প্রধান বলে মনে হয়? আমি বলছি না সবাইকে সরকারি চাকরি করতে হবে, সবাই সরকারি চাকরি করবে না এবং পাবেও না। অনেকে সরকারি চাকরি পেয়েও ছেড়ে দেবে কিন্তু আমার জানার ইচ্ছা, তোর মতে এক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ কী? আমি জানি, তুই তোর পেশায় খুব ভালো আছিস। তোর কাছ থেকে আসল সত্যটা জানতে চাই।’

আমার বন্ধুটি যা বলল, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে এই—

‘আমি পড়াশোনা করেছি ঠিকই, পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেছি; কিন্তু পড়াশোনায় যে জোশ বা গতি থাকার দরকার ছিল, সেটা সব সময় ধরে রাখতে পারিনি।’

জানতে চাইলাম, কেন?

‘কেন, তা তো জানি না। তবে আমার সঙ্গে ঠিক এমনটাই হয়েছে। কয়েক দিন খুব করে পড়েছি, আবার দেখা গেল কিছুদিন পরে সেই গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি।’

বললাম, ‘তুই তো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সব সময় জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার কথা বলতিস। কখনো কি কোনো একজন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিস? অথবা কখনো কোনো জজের জীবনধারা (Lifestyle) খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছিস?’

আমার বন্ধুর উত্তর, ‘না।’

আমি বললাম, ‘পড়াশোনাকালীন সময়ে তুই যদি কখনো একজন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এক দিন সময় কাটাতে পারতি, তাহলে তোর পড়ার আগ্রহ কখনোই কমত না। তুই একটা জিনিস লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিস, কিন্তু সে সম্পর্কে তেমন কিছুই জানিস না। এ বিষয়ে তোর বাস্তব কোনো জানাশোনা নেই।’

‘শোন, তোকে দুই-তিনটা গল্প বলি।’

প্রথম গল্পটা শুনেছি প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের মুখে। তিনি তাঁর একটি বক্তৃতায় অনেকটা এরকম বলেছেন—

‘গ্রামের রাস্তায় যদি কেউ একজন প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির বহর জীবনে প্রথম দেখে—সামনে-পেছনে পুলিশের গাড়ি, কত জৌলুশ! তাহলে সে ভাববে, জীবনে যদি কিছু হতে হয়, তাহলে প্রতিমন্ত্রী হব। আমি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হব না, শুধুই প্রতিমন্ত্রী হব। কারণ সে জীবনে গ্রামে বসে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহর দেখেনি, সে দেখেছে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির বহর। তাই তার হৃদয়গহীনে প্রতিমন্ত্রীর ছাপ পড়ে গেছে।’

এবার তোকে দ্বিতীয় গল্পটা বলি। হুমায়ূন আহমেদের কোনো একটা লেখায় পড়েছিলাম, তিনি তাঁর শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে লিখেছেন—

‘মা আমাদের প্রায়ই শহরের সবচেয়ে সুন্দর বাড়িগুলোর সামনে নিয়ে যেতেন। একদিন একটা বাড়ি দেখিয়ে বললেন, “দেখ, এই বাড়িটা ডিস্ট্রিক্ট জজের। তোদেরও একদিন জজ হতে হবে, এরকম সুন্দর বাড়িতে থাকতে হবে।”

স্বপ্নের বীজ তিনি এভাবেই আমাদের মনে বুনে দিতেন। অর্থাৎ তাঁর মা তাঁকে শুধু এই কথা বলেই ক্ষান্ত হননি যে, তোকে জজ হতে হবে; তিনি জজ হলে কেমন বাড়িতে থাকা যাবে, সেটি প্র্যাকটিক্যালি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে সন্তানের কোমল হৃদয়ে ছাপ রয়ে যায়।

তোকে আমার সর্বশেষ গল্পটি শোনাই। এই গল্পটি হলো আরজে কিবরিয়ার শো-তে শোনা। ‘জীবনের গল্পে’ বলেছিলেন একজন ইনকাম ট্যাক্স কমিশনার সৈয়দ মুহাম্মদ আবু দাউদ, যিনি বাদল সৈয়দ নামে খুবই পরিচিত।

বাদল সৈয়দ যে বছর এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ড স্ট্যান্ড করেন, তখন তাঁর বাবা কাস্টমস ইন্সপেক্টর। অন্যদিকে তাঁর বাবার বন্ধু চট্টগ্রামের কর কমিশনার। লাল ইটের ডুপ্লেক্স সরকারি বাংলো বাড়িতে থাকেন। তাঁরা দুজন বন্ধু হলেও পদ-মর্যাদার পার্থক্যের কারণে বাদল সৈয়দের পিতা তাঁর বন্ধুকে এড়িয়ে চলতেন।

বাদল সৈয়দের অসাধারণ ফলাফলের পরে তাঁর বাবা তাঁকে সেই বাংলো বাড়িতে নিয়ে গেলেন তাঁর বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। পরিচয়পর্ব শেষে যখন বের হয়ে এলেন, তখন বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে বাদল সৈয়দকে বললেন, ‘আমি চাই, তুমি একদিন এই বাড়িতে কর কমিশনার হিসেবে থাকো।’
সত্যিই বাদল সৈয়দ একদিন সেই বাংলো বাড়িতেই কর কমিশনার হিসেবে থেকেছেন।

গল্পগুলো শেষ করে আমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এই গল্পগুলোর সারমর্ম কী, বলতে পারিস?’

বলল, ‘না।’

আমি বললাম, ‘আমরা ছাত্রজীবনে যে যে পেশায় যেতে চেয়েছি, সেইসব পেশার সফল মানুষদের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া এবং তাঁদের জীবনধারা (Lifestyle) না দেখা—আমাদের আইনে পড়ুয়াদের একটি ভুল। হয়তো সকলের সুযোগ হয় না কাছ থেকে দেখার, কিন্তু চেষ্টা করলে অবশ্যই সম্ভব।’

তাই আইনে পড়ুয়াদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে, কর্মজীবনে যে পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, ছাত্রজীবনেই সেই পেশার সফল মানুষদের সঙ্গে মিশে তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেকে তৈরি করুন। তাহলে আমরা যে বলি, ‘পড়তে ভালো লাগে না’—সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারব।

সকলের জন্য শুভকামনা রইল।

(চলবে)

আরিফুল ইসলাম
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
আইন ও বিচার বিভাগ
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 shomoyeralo24
Site Customized By NewsTech.Com