লক্ষ্মীপুর সদরে সংখ্যালঘু মন্দিরে হামলায় ১জন নিহত প্রসঙ্গ
আমাদের সংবাদ প্রতিনিধি সদর লক্ষ্মীপুর থেকে প্রেরীত সংবাদ:
গতকাল ২০শে মে ২০২৪ইং রোজ সোমবার সকাল আনুমানিক ৯ টা থেকে ১১ টার মধ্যে উত্তর বাঞ্চানগর, সদর পৌর ১৪নং ওয়ার্ড শ্রী লক্ষ্মীনারায়ন মন্দিরে রাস্তার প্রসস্থ কাজ চলাকালিন স্থানিয় প্রভাবশালী মৌলবাদ চক্রের বাধার সম্মুখীন হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, উক্ত সকালে মন্দির ও রাস্তা সংস্কার কাজে কর্মরত স্থানিয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের জামায়েত নেতা কবির হোসেন অনৈতীক ক্ষমতার জোরে দলবল নিয়ে কাজে বাধা ও গালিগালাজ করলে উভয়ের মধ্যে চরম উত্তেজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায় জামাতি নেতার নির্দেশে অস্ত্রধারীরা দলবল নিয়ে নিরিহদের উপর হামলা চালালে তারাও নির্মান হাতিয়ার দ্বারা তাদের প্রতিহত করলে উভয়ের মধ্যে ভয়াবহ মারামারি ও দাঙ্গা শুরুহয়। উক্ত দাঙ্গায় উভয় পক্ষে ৭/৮জন গুরুতর জখম প্রাপ্তহয় এবং জামাতি নেতার পূত্র আনোয়ার হোসেন (২৫) মাথায় গুরুতর আহত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্রকরে স্থানিয় জামায়েতী মৌলচক্ররা সংখ্যালঘুদের উপর সম্পূর্ণ দোষ চাপিয়ে তাদের বাড়ী ঘরে হামলা ভাঙ্গচুড় লুটপাট ইত্যাদি বর্বরতা চালায় এবং মন্দির প্রশাসনের ১৫জন হিন্দু ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত ৩০জন হিন্দুর বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সংবাদ প্রতিনিধি স্থানিয় জনগনকে জিজ্ঞাসা বাদে জানতে পারেন যে, প্রভাবশালী জামায়েত নেতা কবির হোসেনের সাথে মন্দির প্রশাসন ও এলাকার গন্যমান্য কিছু হিন্দু পরিবারের সাথে সম্পত্তি কেনাবেচা নিয়ে দীর্ঘদিন জটিল সমস্যা চলমান আছে। বিধায় জামায়েত নেতা মন্দির সংলগ্ন রাস্তার জমি নিজের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দাবী করে দলবল নিয়ে সংখ্যা লঘুদের কাজে বাধা ও হামলা চালানোর কারনে উভয়ের মধ্যে দাঙ্গাফসাদে এই নির্মম হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। প্রতিনিধি থানায় যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, এই মৃত্যুর দায়ভার সম্পূর্ণ হিন্দুদের উপর চাপিয়ে মৃত ভিকটিমের পিতা কবির হোসেন ১। জনি চন্দ্র দাস, পিং-রমেন্দ্র চন্দ্র দাস, ২। জিকু চন্দ্র দাস, পিং-ঐ, ৩। শুভ চন্দ্র দাস, পিং-ঐ,৪। প্রীতম শাহা, পিং-বিক্রম শাহা, ৫। পলাশ দ্বেবনাথ, পিং-পঙ্কজ দ্বেবনাথ, ৬। সুমন ভৌমিক, পিং-রঞ্জন ভৌমিক, ৭। শিমুল বিশ্বাস, পিং-অনিল বিশ্বাস, ৮। সিমান্ত ঘোষ, পিং-হরিদাপাল ঘোষ, ৯। জীবন কুমার, পিং-হেমন্ত কুমার,১০। প্রদ্বিপ শীল, পিং-নিখিল শীল, ১১। বিক্রম শীল, পিং-ঐ, ১২। সুবাশ ডোম, পিং-বাসু ডোম, ১২। মিনাল সরকার, পিং-কালিদাস সরকার, ১৩। হারাধন পাল, পিং-গোপিনাথ পাল, ১৪। মঞ্জু দাস, পিং-কাঞ্চন দাস, ১৫। দীপঙ্কর শীল, পিং-রঘুনাথ শীলগং এবং অজ্ঞাত আরো ৩০জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে গতকাল মামলা রজু করেন এবং পুলিশ ফোর্স এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করে হাজতে বন্দি করেছে। থানার অফিসার ইনচার্জকে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একতরফা হত্যার অভিযোগে মামলা হওয়ার বিষয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিশ্চিত করেন যে, হিন্দু সম্প্রদারা অভিযোগ জানালে পুলিশ তাদের অভিযোগের প্রতি গুরুত্বদিয়ে মামলা গ্রহন ও সুক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তর মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। বর্তমানে আইনি কার্যক্রম চলমান এবং পলাতকদের গ্রেফতার তৎপড়তা বহাল আছে।
Leave a Reply